অনন্যা সাহিত্য পত্রিকা
আজ অনন্যা সাহিত্য পত্রিকার পাতায় থাকছে দুজন কবির দু টি কবিতা। প্রথম জন কবি রিংকু কর্মকার চৌধুরী । দ্বিতীয়জন কবি শ্রাবণী বসু । অনন্যার পাতায় এদের কবিতা প্রকাশিত হয়েছিল যথাক্রমে ৭২ , ৭৭ পাতায়। লেখার সঙ্গে ছবিও দেওয়া হল।
একটা জন্ম অন্যরকম হবে
রিংকু কর্মকার চৌধুরী
কুড়িয়ে পেয়েছিলাম যা কিছু
ফেলে আসা জন্মগুলোয়
খুব কমদামে বিলিয়েছি
নদীদের বুকে। আলুথালু নদীরা
আমার গোপন সবকিছু জানে।
ফেলে আসা জন্মগুলোয়
খুব কমদামে বিলিয়েছি
নদীদের বুকে। আলুথালু নদীরা
আমার গোপন সবকিছু জানে।
মাধুকরী অন্নে মিটিয়েছি ক্ষিদে
রাস্তায় হেঁটে গেছি ভিক্ষাপাত্র হাতে।
মুখচেনা গলিগুলো পাঁচিলের
পিছনে থাকে। অন্তরালে ।
রাস্তায় হেঁটে গেছি ভিক্ষাপাত্র হাতে।
মুখচেনা গলিগুলো পাঁচিলের
পিছনে থাকে। অন্তরালে ।
এমন আরো কিছু জন্ম হবে আমার
যাদের আমি ভালোবেসে রাখবো।
অচেনা কষ্ট আবেগের সীমা
পেরিয়ে ,আলো জ্বালাবে ইবাদতখানায়
![]() |
অনন্যা সাহিত্য পত্রিকা |
সুখীয়া
শ্রাবণী বসু
ভোরবেলা বিছনা ছেড়ে সুখীয়ার সময় ছোটে ,
ঘুঁটে জ্বেলে মাটির চুলায়, বঁটিতে কুটনো কাটে।
বয়সে কাঁচা তবু , মাপ নেই ভুল করলে,
শীর্ণ দুটো হাতে , সন্তান নেয় সামলে।
মেয়েটা বড্ড ছোট ,সময়ের আগেই হোল !
হাড় সার মায়ের বুকে ,মেয়েটা মুখ ডোবালো।
সুখীয়ার ডাগর চোখে , রামধনু সাতটি রঙে ,
স্বপ্ন বুকে নিয়ে , সুখীয়া প্রহর
গোনে।
শিশুটির ফোটা মুখে ,নিষ্পাপ পদ্ম হাসে ,
দিনভর কাজের পরে, সুখীয়া ঘুমের দেশে।
মাঝরাতে শরীরে তার , মরদের কঠিন দাবী,
ক্লান্ত শরীর খানা খুঁজে চলে সুখের
চাবি।
সুখীয়ার ভাল্লাগেনা ,এক ঘেয়ে নষ্ট জীবন,
অভাবের বন্ধু হয়ে, রাতদিন কান্না সেবন।
সে ভাবে ,মুক্তি কোথায় ? কিসে সুখ , কেমন করে ?
নিজেকেই প্রশ্ন সুধায় , দিনভর কাজের আড়ে।
ওদিকে বছর পেরোয় ,অকালে চুলও পাকে ,
বুক দিয়ে দুর্গ গড়ে , মেয়েকে আগলে রাখে।
গাছেতে ফল পেকেছে , গন্ধ উড়ে বেড়ায়,
রাতদিন সজাগ থেকে , সুখীয়া মাছি তাড়ায়।
সবুরে ফলল মেওয়া , মেয়ে তার মানুষ হোল ,
সুখীয়ার কষ্ট গুলো এদ্দিনে মুক্তি পেল।।
মেয়েটা নিজের পায়ে ,দাঁড়িয়ে কইলো কথা ,
সুখীয়া বলল হেসে , এইবার ঘুচলো ব্যথা।
![]() |
অনন্যা সাহিত্য পত্রিকা |
লেখা পড়ে মতামত দেবার অনুরোধ করলাম।


No comments:
Post a Comment