অনন্যা সাহিত্য পত্রিকা, 2016, poems
আজ অনন্যা সাহিত্য পত্রিকার পাতায় থাকছে তিনজন কবির তিন টি কবিতা। প্রথম জন পুরুলিয়ার তরুণ কবি পল্লব গোস্বামী । একজন উত্তর প্রদেশ নিবাসী মৌ দাশগুপ্ত। আরেকজন প্রিয় কবি অঙ্কুর কুণ্ডু। অনন্যার পাতায় এদের কবিতা প্রকাশিত হয়েছিল যথাক্রমে ২৮, ৬৪, ৩৩ পাতায়। লেখার সঙ্গে ছবিও দেওয়া হল। অনন্যা সাহিত্য পত্রিকা ২০১৬।
আমি নির্বাক থেকেছি
পল্লব গোস্বামী
রং-পলাশের মাঠ জুড়ে সেদিনও রাখাল ছেলেটা হিমালয়ের মতোই বসেছিল--
দৃষ্টি তার প্রতিদিনের মতোই উদাশ হাওয়া,পায়ের নীচে উদ্দাম ঘাসফুল।
তুমি তাকে শহরের সাতমহলা বৃষ্টি -স্বপ্ন দেখালে---
ধূসর চোখে ঢেলে দিলে কংক্রিট আকাশের লাল তরমুজ সুরা।
ওলের কান্ডের মতোই স্তব্ধ থেকেছি সেদিনও..;
হ্যাঁ সেদিনও আমি নির্বাক থেকেছি....
বাচিকের মেঘ হয়ে জন্মান্ধ ছেলেটা বরাবরের মতোই বেশ তো ঝরছিল! ---
ঘুমন্ত লাউয়ের মতোই তার মন,কল্পনাও ডুবে ছিল ইঁটের স্পর্শকোনে..।
স্পর্শমণি হয়ে তাকে ভূ-স্বর্গের অমোঘ হাতছানি দিলে---
ফুসমন্তরে শুনিয়ে গেলে তুষারের ভৈরবী গান।
কাকভেজা রংমশালের মতোই নিষ্ক্রিয় থেকেছি সেদিনও..;
হ্যাঁ,সেদিনও আমি নির্বাক থেকেছি..........
মেঘবালিকার মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে চেয়েছিল দুধ-ভাত বন্দী বেড়ালটাও---
জিভের শিরায় সায়ানাইটের হাতছানি...;
রক্তপিশাচ মায়ায় লক্ লকে লাল ইঁদুরের ঘ্রাণ দিয়ে গেলে তুমি---
আন্ত্রিকের ক্ষতের মতো বেআব্রু হয়েই পড়ে থেকেছি সেদিনও...;
হ্যাঁ,সেদিনও আমি নির্বাক থেকেছি........
লাল টুকটুক ঠোঁট আর মেঘ- রাতের দুটি পাখী--
বর্ষার স্পন্দনে সেদিনই ঘর বেঁধেছিলো তারা।
জলের গায়েই লিখেছিলো গোলাপের গান;
ঠিক তখনই আকাশের বুক চিরে আছড়ে পড়লো শতকোটি হ্যালির ধুমকেতু....
একপলকেই স্বপ্ন পুড়ে ছাই,রক্তাক্ত পাতার বাসর..।
চোরা শিকারীর চোখের মতোই নিষ্পলক থেকেছি সেদিনও..;
হ্যাঁ,সেদিনও আমি নির্বাক থেকেছি...
এমনকি,তোমার আদরে হিমালয় যেদিন ডুব দিতে চাইলো টেথিস সাগরে---;
ঘুনধরা সর্পগন্ধার দামে বিকিয়ে গেলো মানবিকতা!..;
পবিত্র ফল্গুধারার ধারে দাঁড়িয়ে সেদিনও ভাবলাম বরাবরের মতোই নির্বিকই থাকবো,,,,
কিন্তু কেন জানিনা সেটাও আর পারলাম না কিছুতেই...
বোধহয় নির্বাকতার সত্ত্বাটাও নোংরা ওষুধের মতোই অকেজো হয়ে যায় একদিন,...
পরিচর্যার অভাবে একটু একটু করে,মহাসময়ের অকুলান পথে।
ভ্রমন...।
আগেকার আবদার ঘাম জমাট বরফ হয়ে ব্রেন্ডেড ব্যানারে ঝকঝকে।
রচনার বদলে শুধু কবিতা, এই যা! অথবা পিঠ চাপড়ানো অকবিতা,
লেখার আগেই শব্দগুলো সেজে ওঠে অভিসারিকার মত নিপুন রহস্যে,
বিষয় এখন উপজীব্য নয়,
আমি জানি, নারীর অর্থ রমনী, রমনযোগ্যা,
নারী সৃষ্টি করে নাড়ীছেঁড়া ধন,
নারী সেই শুকিয়ে যাওয়া ইব নদীর মতন।
জলের অভাবে শুকিয়ে গিয়েও ভালোবাসা পেয়ে বেঁচে উঠতে চায়,
আমার কলমও বোধহয় নারী সমার্থক,তাই কাগজের কাছে এসে
বিষয় ছাড়াই আজকাল নারীদের কথা লিখতে পারে ।
আমি নির্বাক থেকেছি
পল্লব গোস্বামী
রং-পলাশের মাঠ জুড়ে সেদিনও রাখাল ছেলেটা হিমালয়ের মতোই বসেছিল--
দৃষ্টি তার প্রতিদিনের মতোই উদাশ হাওয়া,পায়ের নীচে উদ্দাম ঘাসফুল।
তুমি তাকে শহরের সাতমহলা বৃষ্টি -স্বপ্ন দেখালে---
ধূসর চোখে ঢেলে দিলে কংক্রিট আকাশের লাল তরমুজ সুরা।
ওলের কান্ডের মতোই স্তব্ধ থেকেছি সেদিনও..;
হ্যাঁ সেদিনও আমি নির্বাক থেকেছি....
বাচিকের মেঘ হয়ে জন্মান্ধ ছেলেটা বরাবরের মতোই বেশ তো ঝরছিল! ---
ঘুমন্ত লাউয়ের মতোই তার মন,কল্পনাও ডুবে ছিল ইঁটের স্পর্শকোনে..।
স্পর্শমণি হয়ে তাকে ভূ-স্বর্গের অমোঘ হাতছানি দিলে---
ফুসমন্তরে শুনিয়ে গেলে তুষারের ভৈরবী গান।
কাকভেজা রংমশালের মতোই নিষ্ক্রিয় থেকেছি সেদিনও..;
হ্যাঁ,সেদিনও আমি নির্বাক থেকেছি..........
মেঘবালিকার মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে চেয়েছিল দুধ-ভাত বন্দী বেড়ালটাও---
জিভের শিরায় সায়ানাইটের হাতছানি...;
রক্তপিশাচ মায়ায় লক্ লকে লাল ইঁদুরের ঘ্রাণ দিয়ে গেলে তুমি---
আন্ত্রিকের ক্ষতের মতো বেআব্রু হয়েই পড়ে থেকেছি সেদিনও...;
হ্যাঁ,সেদিনও আমি নির্বাক থেকেছি........
লাল টুকটুক ঠোঁট আর মেঘ- রাতের দুটি পাখী--
বর্ষার স্পন্দনে সেদিনই ঘর বেঁধেছিলো তারা।
জলের গায়েই লিখেছিলো গোলাপের গান;
ঠিক তখনই আকাশের বুক চিরে আছড়ে পড়লো শতকোটি হ্যালির ধুমকেতু....
একপলকেই স্বপ্ন পুড়ে ছাই,রক্তাক্ত পাতার বাসর..।
চোরা শিকারীর চোখের মতোই নিষ্পলক থেকেছি সেদিনও..;
হ্যাঁ,সেদিনও আমি নির্বাক থেকেছি...
এমনকি,তোমার আদরে হিমালয় যেদিন ডুব দিতে চাইলো টেথিস সাগরে---;
ঘুনধরা সর্পগন্ধার দামে বিকিয়ে গেলো মানবিকতা!..;
পবিত্র ফল্গুধারার ধারে দাঁড়িয়ে সেদিনও ভাবলাম বরাবরের মতোই নির্বিকই থাকবো,,,,
কিন্তু কেন জানিনা সেটাও আর পারলাম না কিছুতেই...
বোধহয় নির্বাকতার সত্ত্বাটাও নোংরা ওষুধের মতোই অকেজো হয়ে যায় একদিন,...
পরিচর্যার অভাবে একটু একটু করে,মহাসময়ের অকুলান পথে।
ভ্রমন...।
মৌ দাশগুপ্ত
আগে বিষয়বস্তু ছাড়া একলাইনও লিখতে পারতাম না।
স্কুলের শেষ বেঞ্চে বসে রচনা লেখার বিষয় ছিল ‘নারী’,
কানমলা খেতে খেতে ‘নারী- নীরা- রানী’ শব্দভান্ডার চষে বেরিয়েছি,
খাতার মলাটের ভিতরের সাদা পাতায়
একবিন্দু কালির আঁচড় পড়েনি মেঘ- মেঘ বৃষ্টির পরেও,
বইয়ের দোকান খুঁজে খুঁজে মরেছি
কিন্তু নিজের ভাষায় নারীকে বর্ণনা করতে পারিনি।
এরপর যতদিন গেছে, জীবন অনুভব দিয়েছে ঠেসে,স্কুলের শেষ বেঞ্চে বসে রচনা লেখার বিষয় ছিল ‘নারী’,
কানমলা খেতে খেতে ‘নারী- নীরা- রানী’ শব্দভান্ডার চষে বেরিয়েছি,
খাতার মলাটের ভিতরের সাদা পাতায়
একবিন্দু কালির আঁচড় পড়েনি মেঘ- মেঘ বৃষ্টির পরেও,
বইয়ের দোকান খুঁজে খুঁজে মরেছি
কিন্তু নিজের ভাষায় নারীকে বর্ণনা করতে পারিনি।
আগেকার আবদার ঘাম জমাট বরফ হয়ে ব্রেন্ডেড ব্যানারে ঝকঝকে।
রচনার বদলে শুধু কবিতা, এই যা! অথবা পিঠ চাপড়ানো অকবিতা,
লেখার আগেই শব্দগুলো সেজে ওঠে অভিসারিকার মত নিপুন রহস্যে,
বিষয় এখন উপজীব্য নয়,
আমি জানি, নারীর অর্থ রমনী, রমনযোগ্যা,
নারী সৃষ্টি করে নাড়ীছেঁড়া ধন,
নারী সেই শুকিয়ে যাওয়া ইব নদীর মতন।
জলের অভাবে শুকিয়ে গিয়েও ভালোবাসা পেয়ে বেঁচে উঠতে চায়,
আমার কলমও বোধহয় নারী সমার্থক,তাই কাগজের কাছে এসে
বিষয় ছাড়াই আজকাল নারীদের কথা লিখতে পারে ।
অস্তিত্ব –অনুমানের নাম
অঙ্কুর কুন্ডু
(১)
বিষ এসেছিল
জানালার কাঁচে রোদের সাথে
বিষ এসেছিল
আমার ঘুম ভাঙাতে
বিষ ফিরেছিল
খালি হাতে
এখনও যে ব্রাশ ঘষিনি
গত রাতের বাসি দাঁতে !
(২)
রাতের ফুটপাথে হেঁটেছিলাম
প্রতিটা বাড়ির দোর ধরে ধরে
মাঝে দু’-চারটে কড়া নেড়েছিলাম
নিজেরই জ্ঞানে খুব জোরে
তারপর বাড়ি ফিরে দেখি
উঠোনে আমার অচেনা খাট
এখনও ওঠেনি টেম্পোয় , আমার
বাসা বদলাবে পোরোলেই এই রাত !
(৩)
দুপুর পোহালেই বিকেলের রোদ
নিয়ে তোমার বাড়ি যেতাম
জানালায় বসে তুমি
আমি হাল্কা চোখ বুজতাম
তারপর… চোখ খুলে তোমার
ছবির কাঁচে দেখি নিজেকেই
দুপুর পোহালেই বিকেলের রোদে



No comments